ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলোয় সম্ভাব্য উত্তোলন বৃদ্ধির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের বড় ধরনের দরপতন দেখা দিয়েছে। সপ্তাহজুড়ে ব্রেন্টের (অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ) দাম কমেছে ৮ দশমিক ১ শতাংশ। এটি তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক দরপতন। খবর রয়টার্স।
তবে গত সপ্তাহের লেনদেনের শেষদিন শুক্রবার ব্রেন্টের দাম ব্যারেলে ৪২ সেন্ট বা দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য পৌঁছেছে ৬৪ ডলার ৫৩ সেন্টে। অন্যদিকে মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলার ৮৮ সেন্টে স্থির হয়, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। সপ্তাহজুড়ে ডব্লিউটিআইয়ের দরপতন হয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
বিওকে ফাইন্যান্সিয়ালের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অব ট্রেডিং ডেনিস কিসলার বলেন, ‘ওপেক প্লাস জোটের সম্ভাব্য উত্তোলন বৃদ্ধি এবং দুই বছর পর ইরাক-তুরস্ক পাইপলাইন পুনরায় চালু হওয়ায় বাজারে বাড়তি সরবরাহের সম্ভাবনা বেড়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মজুদ বাড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে কমে এসেছে জ্বালানি তেলের দাম।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন বৈঠকে ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলো জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারে। এছাড়া সৌদি আরব বাজার হিস্যা পুনরুদ্ধারে বড় আকারের বৃদ্ধির পক্ষে, যেখানে রাশিয়া তুলনামূলকভাবে সীমিত আকারে উত্তোলন বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শীতকালীন মৌসুমে পরিশোধনাগার রক্ষণাবেক্ষণ, মৌসুমি চাহিদা হ্রাস এবং অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে জ্বালানি তেলের দাম আরো কমে যেতে পারে। রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক জানিভ শাহ বলেন, ‘গ্রীষ্মকালীন চাহিদা শেষ হওয়ায় আটলান্টিক অঞ্চলে জ্বালানির চাহিদা কমছে। অক্টোবর থেকে অতিরিক্ত সরবরাহের সম্ভাবনা এখন আরো স্পষ্ট।’
জেপি মরগানের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিক (অক্টোবর-ডিসেম্বর) থেকে আগামী বছর পর্যন্ত জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের উদ্বৃত্ত দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে ইরাকের জ্বালানি তেল মন্ত্রণালয় জানায়, প্রায় দুই-দেড় বছর পর উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল থেকে তুরস্কে জ্বালানি তেল পরিবহন পাইপলাইন আবার চালু হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) দেয়া তথ্যানুযায়ী, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল, গ্যাসোলিন ও ডিস্টিলেটের মজুদ বেড়েছে। এ সময় দেশটিতে পরিশোধন কার্যক্রম ও চাহিদা উভয়ই কিছুটা কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের দামে।
অন্যদিকে শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় শেভরনের এল সেগুন্ডো পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ২ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল দৈনিক ক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানটি পশ্চিম উপকূলের অন্যতম বৃহৎ স্থাপনা। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ দুর্ঘটনার প্রভাব জ্বালানি তেলের দামে তেমন পড়বে না।